পাইলস (অর্শ) রোগের লক্ষণ, কারণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

পাইলস (অর্শ) একটি খুবই সাধারণ সমস্যা, যা যেকোনো বয়সের নারী-পুরুষের হতে পারে। এ রোগে মলদ্বার বা মলাশয়ের নিচের অংশের শিরাগুলো ফুলে যায় এবং কখনও কখনও ব্যথা, রক্তপাত, চুলকানি বা অস্বস্তির কারণ হয়। অনেকেই লজ্জা বা সংকোচের কারণে শুরুতে চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না, ফলে সমস্যা ধীরে ধীরে আরও জটিল হতে পারে।

দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, স্থূলতা, গর্ভাবস্থা এবং কম আঁশযুক্ত খাদ্যাভ্যাস পাইলস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তবে সময়মতো রোগ শনাক্ত করে জীবনযাপনে পরিবর্তন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

এই নিবন্ধে পাইলস (অর্শ) রোগের লক্ষণ, সম্ভাব্য কারণ, কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়, চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতি, কী খাবেন, কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন এবং ভবিষ্যতে পাইলসের ঝুঁকি কমানোর কার্যকর উপায় সম্পর্কে সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

পাইলস (অর্শ) রোগের লক্ষণ, কারণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

সংক্ষেপে জেনে নিন

  • পাইলস হলো মলদ্বার বা মলাশয়ের নিচের অংশের ফুলে যাওয়া শিরা।
  • মলত্যাগের সময় রক্ত পড়া, ব্যথা, চুলকানি এবং মলদ্বারের কাছে গুটি অনুভব হওয়া এর সাধারণ লক্ষণ।
  • দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মলত্যাগ, কম আঁশযুক্ত খাবার এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা পাইলসের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, পর্যাপ্ত জল পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজনে ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।
  • সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাইলস সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

পাইলস (অর্শ) কী?

পাইলস (অর্শ) বা Hemorrhoids হলো মলদ্বার (Anus) বা মলাশয়ের (Rectum) নিচের অংশের শিরাগুলো ফুলে যাওয়ার একটি সাধারণ সমস্যা। এই শিরাগুলো স্বাভাবিকভাবেই আমাদের শরীরে থাকে এবং মল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তবে বিভিন্ন কারণে এগুলোর ওপর দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চাপ পড়লে সেগুলো ফুলে গিয়ে পাইলসের সৃষ্টি হতে পারে।

পাইলস সবসময় ব্যথা সৃষ্টি করে না। অনেকের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মলত্যাগের সময় রক্তপাত হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে ব্যথা, চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা মলদ্বারের বাইরে ছোট গুটি দেখা দিতে পারে।

জেনে রাখুন

পাইলস একটি সাধারণ রোগ এবং এটি ক্যান্সার নয়। তবে মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া সবসময় পাইলসের কারণে হয় না। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মলদ্বারের শিরাগুলো স্বাভাবিকভাবে কী কাজ করে?

অনেকেই মনে করেন, পাইলস মানেই শরীরে নতুন কোনো অস্বাভাবিক গুটি তৈরি হয়েছে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। মলদ্বারের ভেতরে ও বাইরে স্বাভাবিকভাবেই কিছু শিরা ও টিস্যুর একটি জালিকা থাকে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Hemorrhoidal Cushions বলা হয়। এগুলো মল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং মলদ্বারকে সঠিকভাবে বন্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পাইলস (অর্শ) কেন হয়?

মলদ্বারের শিরাগুলোর ওপর দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চাপ পড়লে পাইলস হতে পারে। এই চাপ বিভিন্ন কারণে তৈরি হতে পারে এবং অনেক সময় একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করে।

১. দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য

কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দিতে হয়। দীর্ঘদিন এমন হলে মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে গিয়ে পাইলস হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায় | প্রাকৃতিকভাবে পেট পরিষ্কার রাখার টিপস নিবন্ধটি।

২. দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা

মোবাইল ফোন ব্যবহার বা অন্য কারণে দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকলে মলদ্বারের শিরার ওপর চাপ বেড়ে যায়, যা পাইলসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

৩. কম আঁশযুক্ত খাদ্যাভ্যাস

প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফলমূল ও গোটা শস্য না খেলে মল শক্ত হয়ে যেতে পারে। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পাইলসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

৪. পর্যাপ্ত জল পান না করা

কম জল পান করলে মল শক্ত হয়ে যেতে পারে, ফলে মলত্যাগের সময় বেশি চাপ দিতে হয় এবং পাইলসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বিস্তারিত জানতে পড়ুন: প্রতিদিন কতটা জল পান করা উচিত? কম জল পান করলে কী হতে পারে?

৫. গর্ভাবস্থা

গর্ভাবস্থায় জরায়ুর আকার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মলদ্বারের শিরার ওপর চাপ বাড়তে পারে। এছাড়া হরমোনগত পরিবর্তনের কারণেও অনেক গর্ভবতী নারীর পাইলস দেখা দেয়।

৬. স্থূলতা

অতিরিক্ত ওজন মলদ্বারের শিরার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা পাইলস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

৭. ভারী জিনিস তোলা

নিয়মিত খুব ভারী জিনিস তুললে পেটের ভেতরের চাপ বেড়ে যায়, যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পাইলসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

৮. বয়স বৃদ্ধি

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মলদ্বারের শিরাকে সমর্থনকারী টিস্যু দুর্বল হতে পারে। ফলে পাইলস হওয়ার সম্ভাবনাও কিছুটা বেড়ে যায়।

পাইলস (অর্শ) রোগের লক্ষণ

পাইলসের লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে একরকম হয় না। পাইলসের ধরন, আকার এবং অবস্থানের ওপর নির্ভর করে উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে শুরুতে কোনো ব্যথা থাকে না, আবার কারও ক্ষেত্রে ব্যথা, রক্তপাত বা মলদ্বারের কাছে গুটি অনুভব হতে পারে।

১. মলত্যাগের সময় রক্ত পড়া

এটি পাইলসের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলোর একটি। সাধারণত মলত্যাগের সময় টাটকা উজ্জ্বল লাল রঙের রক্ত দেখা যায়, যা টয়লেট পেপার, প্যান বা মলের গায়ে লেগে থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা ছাড়াই রক্তপাত হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ

মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া সবসময় পাইলসের কারণে হয় না। কোলন পলিপ, কোলোরেক্টাল ক্যান্সার, অ্যানাল ফিশার বা অন্ত্রের অন্যান্য রোগেও এমন হতে পারে। তাই বারবার রক্তপাত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. মলদ্বারের কাছে গুটি অনুভব হওয়া

পাইলসের কারণে মলদ্বারের বাইরে ছোট বা বড় গুটি অনুভূত হতে পারে। কখনও এটি মলত্যাগের সময় বাইরে বেরিয়ে আসে এবং পরে নিজে থেকেই ভেতরে চলে যায়, আবার কখনও হাত দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করাতে হয়।

৩. মলদ্বারে ব্যথা বা অস্বস্তি

বিশেষ করে বাহ্যিক (External) পাইলস বা রক্ত জমাট বাঁধা পাইলস (Thrombosed Hemorrhoid)-এর ক্ষেত্রে তীব্র ব্যথা হতে পারে। বসা, হাঁটা বা মলত্যাগের সময় এই ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।

৪. চুলকানি বা জ্বালাপোড়া

মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা ত্বকে অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। এটি দীর্ঘদিন থাকলে ত্বকে জ্বালা বা ক্ষতও তৈরি হতে পারে।

৫. মলত্যাগের পরও সম্পূর্ণ পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি

কিছু মানুষের মনে হতে পারে যে মলত্যাগ সম্পূর্ণ হয়নি বা এখনও কিছু মল রয়ে গেছে। বিশেষ করে বড় অভ্যন্তরীণ (Internal) পাইলসের ক্ষেত্রে এমন অনুভূতি হতে পারে।

৬. মিউকাস (শ্লেষ্মা) নির্গত হওয়া

কিছু ক্ষেত্রে মলত্যাগের পর অল্প পরিমাণ শ্লেষ্মা বের হতে পারে, যা অন্তর্বাস ভিজিয়ে দিতে পারে এবং চুলকানি বা ত্বকের অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

৭. মলদ্বারের চারপাশে ফোলা

বাহ্যিক পাইলসের ক্ষেত্রে মলদ্বারের চারপাশে ফোলা বা শক্তভাব অনুভূত হতে পারে। যদি সেখানে রক্ত জমাট বাঁধে, তাহলে ব্যথা আরও তীব্র হতে পারে।

জেনে রাখুন

শুরুতেই চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ পাইলস অস্ত্রোপচার ছাড়াই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই লক্ষণ দেখা দিলেও লজ্জা বা সংকোচের কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি করবেন না।

যাদের পাইলস হওয়ার ঝুঁকি বেশি

  • যাদের দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে।
  • যারা নিয়মিত কম আঁশযুক্ত খাবার খান।
  • যারা পর্যাপ্ত জল পান করেন না।
  • গর্ভবতী নারী।
  • স্থূলতায় আক্রান্ত ব্যক্তি।
  • যারা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন।
  • যারা নিয়মিত ভারী জিনিস তোলেন।
  • যাদের পরিবারে পাইলসের ইতিহাস রয়েছে।

পাইলস কত ধরনের?

পাইলস সাধারণত অবস্থান এবং তীব্রতার ভিত্তিতে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। সঠিক চিকিৎসা নির্ধারণের জন্য পাইলসের ধরন জানা গুরুত্বপূর্ণ।

১. অভ্যন্তরীণ পাইলস (Internal Hemorrhoids)

এটি মলাশয়ের ভেতরে থাকে এবং সাধারণত বাইরে থেকে দেখা যায় না। শুরুতে ব্যথা না থাকলেও মলত্যাগের সময় রক্তপাত হতে পারে। বড় হয়ে গেলে এটি মলদ্বারের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে।

২. বাহ্যিক পাইলস (External Hemorrhoids)

এটি মলদ্বারের বাইরের অংশে তৈরি হয়। এতে ব্যথা, চুলকানি, ফোলা এবং বসতে অস্বস্তি হতে পারে।

৩. প্রোল্যাপসড পাইলস (Prolapsed Hemorrhoids)

অভ্যন্তরীণ পাইলস বড় হয়ে মলদ্বারের বাইরে বেরিয়ে এলে তাকে প্রোল্যাপসড পাইলস বলা হয়। শুরুতে এটি নিজে থেকেই ভেতরে চলে যেতে পারে, তবে পরবর্তীতে হাত দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করাতে হতে পারে।

৪. থ্রম্বোসড পাইলস (Thrombosed Hemorrhoids)

যখন বাহ্যিক পাইলসের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধে, তখন তাকে থ্রম্বোসড পাইলস বলা হয়। এতে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, শক্ত গুটি এবং ফোলা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পাইলসের গ্রেড (Grade) কী?

অভ্যন্তরীণ (Internal) পাইলসকে সাধারণত চারটি গ্রেডে ভাগ করা হয়। এটি রোগের তীব্রতা বোঝাতে এবং চিকিৎসার ধরন নির্ধারণে সাহায্য করে।

  • Grade I: পাইলস ভেতরেই থাকে এবং বাইরে বের হয় না।
  • Grade II: মলত্যাগের সময় বাইরে বের হলেও পরে নিজে থেকেই ভেতরে চলে যায়।
  • Grade III: বাইরে বের হলে হাত দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করাতে হয়।
  • Grade IV: সবসময় বাইরে থাকে এবং সহজে ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না।
জেনে রাখুন

সব পাইলসের রোগীর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। পাইলসের ধরন, গ্রেড এবং উপসর্গের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক উপযুক্ত চিকিৎসা নির্বাচন করেন।

পাইলস (অর্শ) কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

পাইলস নির্ণয়ের জন্য প্রথমে চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ, মলত্যাগের অভ্যাস, রক্তপাতের ধরন এবং পূর্বের রোগের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চান। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা এবং কিছু বিশেষ পরীক্ষা করা হতে পারে।

সব রোগীর ক্ষেত্রে সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। রোগীর বয়স, উপসর্গ এবং ঝুঁকির কারণ অনুযায়ী চিকিৎসক উপযুক্ত পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

১. শারীরিক পরীক্ষা (Physical Examination)

বাহ্যিক (External) পাইলস অনেক সময় শুধুমাত্র শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমেই শনাক্ত করা যায়। চিকিৎসক মলদ্বারের চারপাশে ফোলা, গুটি বা অন্যান্য অস্বাভাবিক পরিবর্তন আছে কি না তা পরীক্ষা করেন।

২. ডিজিটাল রেক্টাল পরীক্ষা (Digital Rectal Examination - DRE)

এই পরীক্ষায় চিকিৎসক গ্লাভস পরা ও লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করা একটি আঙুলের সাহায্যে মলাশয়ের ভেতর পরীক্ষা করেন। এর মাধ্যমে পাইলস ছাড়াও অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না তা বোঝা যায়।

৩. অ্যানোস্কোপি (Anoscopy)

প্রয়োজনে চিকিৎসক অ্যানোস্কোপ নামের একটি ছোট যন্ত্র ব্যবহার করে মলদ্বার ও মলাশয়ের নিচের অংশ পর্যবেক্ষণ করেন। এটি অভ্যন্তরীণ (Internal) পাইলস নির্ণয়ে সহায়ক।

৪. সিগময়েডোস্কোপি বা কোলোনোস্কোপি

যদি দীর্ঘদিন রক্তপাত হয়, বয়স বেশি হয়, রক্তস্বল্পতা থাকে, ওজন কমে যায় অথবা কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে, তাহলে চিকিৎসক সিগময়েডোস্কোপি বা কোলোনোস্কোপির পরামর্শ দিতে পারেন। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে বৃহদান্ত্রের ভেতর বিস্তারিতভাবে দেখা যায় এবং অন্যান্য গুরুতর রোগ আছে কি না তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

জেনে রাখুন

মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া মানেই পাইলস নয়। তাই দীর্ঘদিন রক্তপাত হলে বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ থাকলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পাইলস, অ্যানাল ফিশার ও ফিস্টুলার মধ্যে পার্থক্য

অনেকেই পাইলস, অ্যানাল ফিশার (Anal Fissure) এবং অ্যানাল ফিস্টুলা (Anal Fistula)-কে একই রোগ মনে করেন। কিন্তু এগুলো ভিন্ন সমস্যা এবং চিকিৎসাও এক নয়।

পাইলস (অর্শ)

মলদ্বারের শিরা ফুলে গেলে পাইলস হয়। এর সাধারণ লক্ষণ হলো মলত্যাগের সময় রক্তপাত, গুটি অনুভব হওয়া, চুলকানি বা অস্বস্তি।

অ্যানাল ফিশার

ফিশার হলো মলদ্বারের ত্বকে ছোট ফাটল। এতে মলত্যাগের সময় তীব্র ব্যথা হয় এবং অল্প পরিমাণ উজ্জ্বল লাল রক্ত দেখা যেতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য ফিশারের অন্যতম প্রধান কারণ।

অ্যানাল ফিস্টুলা

ফিস্টুলা হলো মলদ্বারের ভেতর এবং বাইরের ত্বকের মধ্যে একটি অস্বাভাবিক পথ তৈরি হওয়া। এতে বারবার পুঁজ বের হওয়া, ব্যথা, ফোলা এবং সংক্রমণ হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ

পাইলস, ফিশার এবং ফিস্টুলার লক্ষণ কিছু ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে মিল থাকতে পারে। তাই শুধুমাত্র উপসর্গ দেখে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় বা ওষুধ সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

সত্য বনাম মিথ

❌ মিথ

পাইলস হলে অবশ্যই অস্ত্রোপচার করতে হয়।

✅ সত্য:

অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, জীবনযাত্রার উন্নতি এবং ওষুধের মাধ্যমেই উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

❌ মিথ

পাইলস থেকে ক্যান্সার হয়।

✅ সত্য:

পাইলস নিজে ক্যান্সারে পরিণত হয় না। তবে মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়ার অন্য কারণও থাকতে পারে, তাই প্রয়োজনে পরীক্ষা করা জরুরি।

❌ মিথ

শুধু বয়স্কদেরই পাইলস হয়।

✅ সত্য:

যে কোনো বয়সে পাইলস হতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, স্থূলতা বা গর্ভাবস্থার কারণে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

❌ মিথ

রক্ত পড়লে নিশ্চিতভাবে পাইলস হয়েছে।

✅ সত্য:

রক্তপাতের আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

পাইলস (অর্শ) রোগের চিকিৎসা

পাইলসের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ধরন, গ্রেড এবং উপসর্গের তীব্রতার ওপর। অনেক ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং ওষুধের মাধ্যমেই উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে গুরুতর অবস্থায় বিশেষ ধরনের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

১. জীবনযাত্রার পরিবর্তন

পাইলসের প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন করলে উপসর্গ অনেকটাই কমে যেতে পারে।

  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করুন।
  • আঁশসমৃদ্ধ খাবার বেশি খান।
  • মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেবেন না।
  • দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকবেন না।
  • নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করুন।
  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।

২. ওষুধ

প্রয়োজনে চিকিৎসক ব্যথা, চুলকানি বা ফোলা কমানোর জন্য মলম, সাপোজিটরি (Suppository) বা অন্যান্য ওষুধ দিতে পারেন। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে মল নরম করার ওষুধও দেওয়া হতে পারে।

সতর্কতা

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন পাইলসের ওষুধ বা স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়।

৩. অস্ত্রোপচার ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা

ওষুধে উপকার না হলে বা বারবার রক্তপাত হলে চিকিৎসক কিছু বিশেষ পদ্ধতির পরামর্শ দিতে পারেন।

  • রাবার ব্যান্ড লিগেশন (Rubber Band Ligation)
  • স্ক্লেরোথেরাপি (Sclerotherapy)
  • ইনফ্রারেড কোয়াগুলেশন (Infrared Coagulation)

এসব পদ্ধতিতে সাধারণত হাসপাতালে দীর্ঘদিন ভর্তি থাকার প্রয়োজন হয় না। তবে কোন চিকিৎসা উপযুক্ত হবে, তা রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

৪. অস্ত্রোপচার (Hemorrhoidectomy)

যদি পাইলস খুব বড় হয়, বারবার রক্তপাত হয়, বাইরে বের হয়ে থাকে অথবা অন্য চিকিৎসায় উপকার না হয়, তাহলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

বর্তমানে বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতিতে পাইলসের অস্ত্রোপচার করা হয়। কোন পদ্ধতি সবচেয়ে উপযুক্ত হবে, তা সার্জন রোগীর অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করেন।

পাইলস (অর্শ) প্রতিরোধের উপায়

সব ক্ষেত্রে পাইলস প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করুন।
  • প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার খান।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য হতে দেবেন না।
  • মলত্যাগের বেগ চেপে রাখবেন না।
  • মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেবেন না।
  • দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকবেন না।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
  • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা করুন।
পরামর্শ

দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে তা অবহেলা করবেন না। এটি পাইলসের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ।

পাইলস (অর্শ) হলে কী খাবেন?

পাইলসে খাদ্যাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত আঁশ এবং জল মলকে নরম রাখতে সাহায্য করে, ফলে মলত্যাগ সহজ হয় এবং মলদ্বারের ওপর চাপ কম পড়ে।

যে খাবারগুলো বেশি খাবেন

  • শাকসবজি
  • ফলমূল (পেয়ারা, আপেল, নাশপাতি, কমলা, মাল্টা, পেঁপে)
  • ওটস
  • লাল চাল
  • আটা
  • ডাল
  • ছোলা
  • মুগ ডাল
  • টক দই
  • পর্যাপ্ত জল

কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায় | প্রাকৃতিকভাবে পেট পরিষ্কার রাখার টিপস নিবন্ধটি।

পাইলস (অর্শ) হলে কোন খাবার সীমিত করবেন?

কোনো নির্দিষ্ট খাবার সরাসরি পাইলস সৃষ্টি করে না। তবে কিছু খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে উপসর্গকে খারাপ করতে পারে।

  • অতিরিক্ত ঝাল খাবার (যদি খেলে উপসর্গ বাড়ে)
  • ফাস্ট ফুড
  • ডিপ ফ্রাই খাবার
  • অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত (Processed) খাবার
  • কম আঁশযুক্ত খাবার
  • অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার
  • অতিরিক্ত অ্যালকোহল (যারা পান করেন)
জেনে রাখুন

ঝাল খাবার সরাসরি পাইলসের কারণ নয়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝাল খেলে মলত্যাগের সময় জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি বাড়তে পারে।

কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

  • বারবার মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়লে।
  • তীব্র ব্যথা বা হঠাৎ ফুলে যাওয়া গুটি দেখা দিলে।
  • মলদ্বারের বাইরে বের হওয়া গুটি ভেতরে না গেলে।
  • জ্বর, অতিরিক্ত ফোলা বা পুঁজ বের হলে।
  • ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন রক্তপাত বা রক্তস্বল্পতার লক্ষণ থাকলে।
  • ৪৫ বছরের বেশি বয়সে প্রথমবার মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়লে অথবা পরিবারে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে।
  • ঘরোয়া যত্ন নেওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গের উন্নতি না হলে।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. পাইলস কি নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়?

হালকা পাইলস অনেক সময় খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে উপসর্গ কমে যেতে পারে। তবে গুরুতর পাইলস বা দীর্ঘদিনের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

২. পাইলস কি ক্যান্সারে পরিণত হয়?

না। পাইলস নিজে ক্যান্সারে পরিণত হয় না। তবে মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়ার অন্য কারণও থাকতে পারে। তাই বারবার রক্তপাত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৩. পাইলস হলে কি সবসময় অস্ত্রোপচার করতে হয়?

না। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, জীবনযাত্রার উন্নতি এবং ওষুধের মাধ্যমেই উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শুধুমাত্র কিছু গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

৪. পাইলস হলে কি ডিম খাওয়া যাবে?

হ্যাঁ। ডিম খাওয়া যায়। তবে পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার এবং জল গ্রহণের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত, যাতে কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়।

৫. পাইলস হলে কি দুধ খাওয়া যাবে?

হ্যাঁ। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে দুধ খাওয়া নিরাপদ। তবে যদি কোনো নির্দিষ্ট খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য বা অস্বস্তি বাড়ে, তাহলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।

৬. পাইলস হলে কি ঝাল খাওয়া যাবে?

ঝাল খাবার সরাসরি পাইলসের কারণ নয়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝাল খেলে মলত্যাগের সময় জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি বাড়তে পারে। তাই উপসর্গ থাকলে ঝাল খাবার সীমিত রাখাই ভালো।

৭. পাইলস হলে কি কলা খাওয়া যাবে?

হ্যাঁ। পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি অন্যান্য আঁশসমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজিও খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

৮. পাইলস কি সম্পূর্ণ ভালো হয়?

অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মাধ্যমে পাইলসের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে জীবনযাপনের অভ্যাস পরিবর্তন না করলে এটি আবারও হতে পারে।

৯. গর্ভাবস্থায় পাইলস হলে কী করবেন?

গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত জল পান, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ওষুধ ব্যবহার করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

১০. পাইলস হলে ব্যায়াম করা যাবে?

হ্যাঁ। নিয়মিত হাঁটা এবং হালকা ব্যায়াম উপকারী হতে পারে। তবে তীব্র ব্যথা থাকলে বা অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যায়াম করা উচিত।

১১. পাইলস কি আবার হতে পারে?

হ্যাঁ। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, কম আঁশযুক্ত খাবার, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বা অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মলত্যাগের অভ্যাস থাকলে পাইলস পুনরায় হতে পারে।

১২. পাইলস হলে কি দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা উচিত?

না। দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকলে মলদ্বারের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তাই মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটাচলা করা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা উপকারী।

১৩. পাইলস কি সংক্রামক?

না। পাইলস কোনো সংক্রামক রোগ নয়। এটি একজনের কাছ থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়ায় না।

১৪. পাইলস কি সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব?

সব ক্ষেত্রে পাইলস সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে পর্যাপ্ত জল পান, আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য এড়িয়ে চলা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ না দিলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

১৫. পাইলস হলে কি সবসময় রক্ত পড়ে?

না। সব পাইলসের রোগীর রক্তপাত হয় না। কারও ক্ষেত্রে শুধুমাত্র চুলকানি, ব্যথা, অস্বস্তি বা মলদ্বারের কাছে গুটি অনুভূত হতে পারে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণই নাও থাকতে পারে।

১৬. পাইলস হলে কি ঘরোয়া উপায়ে ভালো হওয়া সম্ভব?

হালকা পাইলসের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জল পান, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম এবং উষ্ণ জলে সিটজ বাথ (Sitz Bath) করলে উপসর্গ কমতে পারে। তবে রক্তপাত, তীব্র ব্যথা বা গুরুতর উপসর্গ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শেষ কথা

পাইলস (অর্শ) একটি সাধারণ সমস্যা হলেও লজ্জা বা সংকোচের কারণে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা নেন না। অথচ শুরুতেই সঠিক ব্যবস্থা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচার ছাড়াই উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

পর্যাপ্ত জল পান, আঁশসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এড়িয়ে চলার মাধ্যমে পাইলসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। যদি মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া, ব্যথা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পরামর্শ:

পাইলসের লক্ষণকে অবহেলা করবেন না। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা নিলে জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র


দায়বদ্ধতা: এই আর্টিকেলে দেওয়া তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য। এটি কোনো চিকিৎসকের বিকল্প নয়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ (Related Articles)

Comments