গলস্টোন (Gallstone) কেন হয়? লক্ষণ, কারণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও করণীয়

✍️ Written & Researched by: Priyanko Dey, D.Pharm
📅 Last Updated: August 06, 2026

গলস্টোন বা পিত্তথলির পাথর একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। অনেকের শরীরে গলস্টোন থাকলেও কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি তীব্র পেটব্যথা, বমিভাব, জন্ডিস বা অন্যান্য জটিলতার কারণ হতে পারে।

এই নিবন্ধে জানতে পারবেন, গলস্টোন কী, কেন হয়, কী কী লক্ষণ দেখা যায়, কীভাবে নির্ণয় করা হয়, চিকিৎসা, গলস্টোন হলে কী করবেন ও কী করবেন না, প্রতিরোধের উপায়, কী খাবেন, কোন খাবার সীমিত বা এড়িয়ে চলবেন, সাধারণ ভুল ধারণার সত্যতা এবং প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর।

স্বাস্থ্য সতর্কতা

তীব্র পেটব্যথা, জ্বর, বারবার বমি বা চোখ-ত্বক হলুদ হয়ে গেলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এগুলো গলস্টোনের জটিলতার লক্ষণ হতে পারে।

গলস্টোন (Gallstone) সম্পর্কে বাংলা স্বাস্থ্য ইনফোগ্রাফিক

সংক্ষেপে জেনে নিন

  • গলস্টোন কী? পিত্তথলির ভেতরে তৈরি হওয়া শক্ত পাথরসদৃশ পদার্থ।
  • প্রধান কারণ: পিত্তের উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, বিশেষ করে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল।
  • সাধারণ লক্ষণ: ডান পাশের ওপরের পেটে ব্যথা, বমিভাব, বমি, হজমে অস্বস্তি।
  • পরীক্ষা: আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (Ultrasonography) সবচেয়ে প্রচলিত পরীক্ষা।
  • চিকিৎসা: উপসর্গ না থাকলে অনেক সময় শুধু পর্যবেক্ষণ করা হয়। উপসর্গ থাকলে ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
  • প্রতিরোধ: স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।

গলস্টোন (Gallstone) কী?

গলস্টোন বা পিত্তথলির পাথর হলো পিত্তথলির (Gallbladder) ভেতরে তৈরি হওয়া শক্ত কণিকা বা পাথরসদৃশ পদার্থ। এগুলো আকারে বালুকণার মতো ছোট হতে পারে, আবার অনেক ক্ষেত্রে বড়ও হতে পারে।

পিত্তথলি হলো লিভারের নিচে অবস্থিত একটি ছোট থলির মতো অঙ্গ। এটি লিভারে তৈরি হওয়া পিত্ত (Bile) জমা রাখে এবং প্রয়োজনের সময় খাবার, বিশেষ করে চর্বি হজমে সাহায্য করার জন্য ক্ষুদ্রান্ত্রে পাঠায়।

মনে রাখবেন

সব গলস্টোনে লক্ষণ দেখা যায় না। অনেকের ক্ষেত্রে এটি অন্য কারণে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করার সময় হঠাৎ ধরা পড়ে। তবে উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

গলস্টোন কেন হয়?

পিত্ত (Bile)-এর উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হলে গলস্টোন তৈরি হতে পারে। সাধারণত কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন বা পিত্তলবণের (Bile Salts) ভারসাম্য পরিবর্তিত হলে পিত্তথলিতে ধীরে ধীরে শক্ত কণিকা জমে পাথর তৈরি হয়।

১. অতিরিক্ত কোলেস্টেরল

পিত্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি হলে তা সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হতে পারে না। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমে ধীরে ধীরে কোলেস্টেরল পাথর (Cholesterol Gallstone) তৈরি হতে পারে। এটি গলস্টোনের সবচেয়ে সাধারণ কারণ।

২. অতিরিক্ত বিলিরুবিন

কিছু লিভারের রোগ, রক্তের রোগ বা সংক্রমণের কারণে শরীরে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এতে পিগমেন্ট স্টোন (Pigment Stone) তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

৩. পিত্তথলি সম্পূর্ণ খালি না হওয়া

যদি পিত্তথলি নিয়মিত বা সম্পূর্ণভাবে খালি না হয়, তাহলে পিত্ত ঘন হয়ে যেতে পারে। এতে ধীরে ধীরে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়ে।

স্বাস্থ্য সতর্কতা

গলস্টোনের অনেক ক্ষেত্রেই শুরুতে কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, জ্বর, বমি বা জন্ডিস দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

গলস্টোন কত ধরনের?

গলস্টোনের রাসায়নিক গঠন অনুযায়ী সাধারণত দুইটি প্রধান ধরন রয়েছে।

১. কোলেস্টেরল স্টোন (Cholesterol Stone)

এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। পিত্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমে এই ধরনের পাথর তৈরি হয়। সাধারণত এর রং হলুদ বা সবুজাভ হতে পারে।

২. পিগমেন্ট স্টোন (Pigment Stone)

এই ধরনের পাথর সাধারণত গাঢ় বাদামি বা কালো রঙের হয়। অতিরিক্ত বিলিরুবিনের কারণে এটি তৈরি হতে পারে এবং লিভারের রোগ, রক্তের কিছু রোগ বা সংক্রমণের সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

মনে রাখবেন

সব ধরনের গলস্টোনের চিকিৎসা একরকম নয়। পাথরের ধরন, আকার, অবস্থান এবং রোগীর উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণ করেন।

গলস্টোনের লক্ষণ

অনেকের ক্ষেত্রে গলস্টোন থাকলেও কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে পাথর পিত্তনালীতে আটকে গেলে বা প্রদাহ সৃষ্টি করলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে।

  • পেটের ডান পাশের ওপরের অংশে হঠাৎ তীব্র ব্যথা
  • ব্যথা ডান কাঁধ বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া
  • বমিভাব বা বমি
  • তৈলাক্ত বা চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর অস্বস্তি
  • পেট ফাঁপা বা বদহজমের অনুভূতি
  • জ্বর (সংক্রমণ হলে)
  • চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)
  • প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়া
  • মল ফ্যাকাশে বা সাদাটে হওয়া

কারা গলস্টোনে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন?

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে গলস্টোন হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। নিচের কারণগুলো থাকলে গলস্টোন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।

  • নারী হওয়া
  • বয়স ৪০ বছরের বেশি হওয়া
  • অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
  • দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
  • উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত খাদ্যাভ্যাস
  • কম আঁশযুক্ত (Low Fiber) খাবার বেশি খাওয়া
  • ডায়াবেটিস
  • গর্ভাবস্থা
  • পরিবারে গলস্টোনের ইতিহাস থাকা
  • দীর্ঘদিন উপবাস থাকা বা অনিয়মিত খাবার খাওয়া
  • কিছু ওষুধ, যেমন ইস্ট্রোজেন বা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা
মনে রাখবেন

ঝুঁকির কারণ থাকলেই যে গলস্টোন হবে, এমন নয়। আবার কোনো ঝুঁকির কারণ না থাকলেও গলস্টোন হতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

গলস্টোনের কারণে কী কী জটিলতা হতে পারে?

সময়মতো চিকিৎসা না করলে বা পাথর পিত্তনালীতে আটকে গেলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

১. পিত্তথলির প্রদাহ (Cholecystitis)

পাথর পিত্তথলির মুখ বন্ধ করে দিলে প্রদাহ হতে পারে। এতে তীব্র পেটব্যথা, জ্বর এবং বমি হতে পারে।

২. জন্ডিস

পাথর যদি প্রধান পিত্তনালীতে (Common Bile Duct) আটকে যায়, তাহলে বিলিরুবিন রক্তে বেড়ে গিয়ে জন্ডিস হতে পারে।

জন্ডিস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের এই নিবন্ধটি পড়তে পারেন। জন্ডিসের লক্ষণ | জন্ডিস কেন হয়? কারণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও করণীয়

৩. অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ (Pancreatitis)

কিছু ক্ষেত্রে গলস্টোন অগ্ন্যাশয়ের নালীতে বাধা সৃষ্টি করে তীব্র অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের কারণ হতে পারে। এটি একটি গুরুতর অবস্থা এবং দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

৪. পিত্তনালীর সংক্রমণ (Cholangitis)

পিত্তনালীতে বাধার সঙ্গে সংক্রমণ হলে জ্বর, কাঁপুনি, জন্ডিস এবং তীব্র অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। এটি জরুরি চিকিৎসাযোগ্য অবস্থা।

স্বাস্থ্য সতর্কতা

তীব্র পেটব্যথার সঙ্গে জ্বর, বারবার বমি, চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যান।

কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

গলস্টোনের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান বা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

  • পেটের ডান পাশের ওপরের অংশে তীব্র ব্যথা কয়েক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হলে
  • ব্যথার সঙ্গে জ্বর বা কাঁপুনি হলে
  • বারবার বমি হলে বা কিছুই খেতে না পারলে
  • চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে গেলে (জন্ডিস)
  • প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে গেলে বা মল ফ্যাকাশে হয়ে গেলে
  • তীব্র পেটব্যথা ডান কাঁধ বা পিঠে ছড়িয়ে পড়লে
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা অস্বাভাবিক দুর্বল লাগলে
  • গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কারও গলস্টোনের লক্ষণ দেখা দিলে
কখন জরুরি চিকিৎসা নেবেন?

তীব্র পেটব্যথার সঙ্গে জ্বর, জন্ডিস, বারবার বমি বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে বাড়িতে অপেক্ষা করবেন না। দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যান। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

গলস্টোন কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

রোগীর লক্ষণ, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসক গলস্টোন নির্ণয় করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী নিচের এক বা একাধিক পরীক্ষা করা হতে পারে।

  • আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (Ultrasonography): গলস্টোন নির্ণয়ের সবচেয়ে প্রচলিত এবং কার্যকর পরীক্ষা।
  • রক্ত পরীক্ষা: সংক্রমণ, লিভারের কার্যকারিতা এবং বিলিরুবিনের মাত্রা মূল্যায়নের জন্য।
  • CT Scan: জটিলতা বা অন্য কোনো সমস্যা আছে কি না তা দেখতে।
  • MRI / MRCP: পিত্তনালীতে পাথর বা বাধা আছে কি না বিস্তারিতভাবে মূল্যায়নের জন্য।
  • ERCP (Endoscopic Retrograde Cholangiopancreatography): কিছু ক্ষেত্রে পিত্তনালীর পাথর শনাক্ত ও অপসারণের জন্য ব্যবহার করা হয়।
জেনে রাখুন

সব রোগীর সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। রোগীর উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা এবং প্রাথমিক পরীক্ষার ফল অনুযায়ী চিকিৎসক কোন পরীক্ষা প্রয়োজন তা নির্ধারণ করেন।

গলস্টোনের চিকিৎসা

গলস্টোনের চিকিৎসা নির্ভর করে উপসর্গ, পাথরের অবস্থান, আকার এবং জটিলতা আছে কি না তার ওপর।

১. পর্যবেক্ষণ (Observation)

যাদের গলস্টোন থাকলেও কোনো উপসর্গ নেই, তাদের অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সব গলস্টোনের জন্য অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় না।

২. ওষুধ

নির্বাচিত কিছু রোগীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ওষুধের মাধ্যমে ছোট কোলেস্টেরল স্টোন ধীরে ধীরে গলানোর চেষ্টা করা হতে পারে। তবে এই চিকিৎসা সবার জন্য উপযোগী নয় এবং ফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

৩. অস্ত্রোপচার (Cholecystectomy)

বারবার ব্যথা, প্রদাহ, সংক্রমণ বা অন্যান্য জটিলতা থাকলে পিত্তথলি অপসারণের অস্ত্রোপচার (Cholecystectomy) করা হতে পারে। বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ল্যাপারোস্কোপিক (Laparoscopic) পদ্ধতিতে এই অস্ত্রোপচার করা হয়।

মনে রাখবেন

পিত্তথলি অপসারণের পরও বেশিরভাগ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। কারণ লিভার তখনও পিত্ত তৈরি করে এবং তা সরাসরি ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছে যায়।

গলস্টোন হলে কী করবেন? ও কী করবেন না

গলস্টোন ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

যা করবেন

  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করুন।
  • কম চর্বিযুক্ত ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন।
  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন।
  • ব্যথা বা জটিলতা বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

যা করবেন না

  • অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খাবেন না।
  • দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকবেন না।
  • নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ খাওয়া শুরু বা বন্ধ করবেন না।
  • তীব্র ব্যথা বা জ্বরকে অবহেলা করবেন না।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিকল্প চিকিৎসার ওপর নির্ভর করবেন না।

গলস্টোনে কী খাবেন?

গলস্টোন থাকলে সম্পূর্ণভাবে কোনো নির্দিষ্ট খাবার নিষিদ্ধ নয়। তবে কম চর্বিযুক্ত, সুষম ও আঁশসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস উপসর্গ কমাতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

যেসব খাবার খেতে পারেন

  • তাজা শাকসবজি ও বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফল
  • ওটস, লাল চাল, আটার রুটি ও অন্যান্য পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার
  • ডাল, ছোলা, মুগ ডাল ও অন্যান্য ডালজাতীয় খাবার
  • চর্বিহীন মাছ ও মুরগির মাংস
  • লো-ফ্যাট দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করে শরীরকে জলশূন্যতা থেকে রক্ষা করুন।
  • অল্প অল্প করে নিয়মিত বিরতিতে খাবার খান

যেসব খাবার সীমিত বা এড়িয়ে চলবেন

  • অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার
  • ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড
  • প্রক্রিয়াজাত (Processed) খাবার
  • অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনিযুক্ত পানীয়
  • অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত লাল মাংস
  • একবারে খুব বেশি খাবার খাওয়া
পরামর্শ

হঠাৎ করে খুব দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করবেন না। ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে গলস্টোনের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

গলস্টোন কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

সব ক্ষেত্রে গলস্টোন প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  • সুষম ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন।
  • অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার সীমিত করুন।
  • দীর্ঘ সময় উপবাস বা না খেয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন।
  • ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে নিয়মিত নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
সুস্থ থাকার টিপস

নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ শুধু গলস্টোন নয়, আরও অনেক রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

গলস্টোন সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা ও সত্য

❌ মিথ

গলস্টোন থাকলেই অবশ্যই অস্ত্রোপচার করতে হবে।

✅ সত্য

সব গলস্টোনের জন্য অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় না। উপসর্গ ও জটিলতার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।

❌ মিথ

শুধু বয়স্ক মানুষেরই গলস্টোন হয়।

✅ সত্য

যেকোনো বয়সেই গলস্টোন হতে পারে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ে।

❌ মিথ

গলস্টোন থাকলে সব ধরনের তেল বা চর্বি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

✅ সত্য

সম্পূর্ণ বন্ধ নয়, বরং অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার সীমিত রাখা এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

❌ মিথ

গলস্টোন ওষুধ খেলেই সবসময় সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়।

✅ সত্য

সব রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধ কার্যকর নয়। অনেক সময় অস্ত্রোপচারই সবচেয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা হতে পারে।

❌ মিথ

গলস্টোন থাকলে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।

✅ সত্য

অনেকের ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ থাকে না, তবে কারও কারও তীব্র পেটব্যথা, জন্ডিস বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. গলস্টোন কি নিজে নিজে ভালো হয়ে যায়?

সাধারণত গলস্টোন নিজে নিজে দূর হয় না। তবে উপসর্গ না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে শুধু পর্যবেক্ষণ করা হয়।

২. গলস্টোন থাকলে কি সবসময় ব্যথা হয়?

না। অনেকের শরীরে গলস্টোন থাকলেও কোনো উপসর্গ দেখা যায় না।

৩. গলস্টোন কি ওষুধে গলে যায়?

নির্দিষ্ট কিছু ছোট কোলেস্টেরল স্টোন ওষুধে গলতে পারে। তবে এই চিকিৎসা সবার জন্য উপযোগী নয়।

৪. গলস্টোন হলে কি ডিম খাওয়া যাবে?

অনেকেই পরিমিত পরিমাণে ডিম খেতে পারেন। তবে উপসর্গ থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা উচিত।

৫. গলস্টোন কি ক্যান্সারে পরিণত হয়?

সাধারণত না। তবে দীর্ঘদিনের কিছু জটিল ক্ষেত্রে পিত্তথলির ক্যান্সারের ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।

৬. গলস্টোন হলে কি ব্যায়াম করা যাবে?

উপসর্গ না থাকলে বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা থেকে মাঝারি ব্যায়াম করা যেতে পারে।

৭. গলস্টোন কি আবার হতে পারে?

পিত্তথলি অপসারণের পর সাধারণত গলস্টোনের সমস্যা পুনরায় হয় না। তবে বিরল ক্ষেত্রে পিত্তনালীতে নতুন পাথর তৈরি হতে পারে বা আগে থেকে থাকা ছোট পাথর পরে ধরা পড়তে পারে।

৮. গলস্টোন কি জন্ডিসের কারণ হতে পারে?

হ্যাঁ। পাথর যদি প্রধান পিত্তনালীতে আটকে যায়, তাহলে জন্ডিস হতে পারে।

৯. গলস্টোন কি গর্ভাবস্থায় হতে পারে?

হ্যাঁ। গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে গলস্টোনের ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।

১০. গলস্টোন থাকলে কি স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়?

হ্যাঁ। যাদের কোনো উপসর্গ নেই, তারা সাধারণত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। আর যাদের অস্ত্রোপচার হয়েছে, তারাও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

শেষ কথা

গলস্টোন একটি সাধারণ সমস্যা হলেও সময়মতো শনাক্ত ও সঠিক চিকিৎসা না হলে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিন পেটব্যথা, বারবার হজমের সমস্যা বা জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গলস্টোনের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তথ্যসূত্র


দায়বদ্ধতা: এই আর্টিকেলে দেওয়া তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য। এটি কোনো চিকিৎসকের বিকল্প নয়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ (Related Articles)

Popular Articles

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায় | প্রাকৃতিকভাবে পেট পরিষ্কার রাখার টিপস

গ্যাস ও অ্যাসিডিটি কমানোর ঘরোয়া উপায় | বুক জ্বালা থেকে মুক্তির সহজ টিপস

Follow Us